Bell Bottom Review: অক্ষয় কুমারের ‘বেল বটম’ সিনেমা করোনা আবহে বক্স অফিস হিট।

bell bottom akshay kumar

Bell Bottom অক্ষয় কুমার ভারতের অন্যতম সেরা বলিউড অভিনেতা। অক্ষয় কুমারের অসাধারণ অভিনয় ক্ষমতার প্রমাণ তার বিভিন্ন ছবিতে রেখেছেন। তাছাড়া তাঁর সিনেমা গুলোর মধ্যে ‘খিলাড়ি’, ‘খতরো কা খিলাড়ি’, ‘ভাগাম ভাগ’, ‘ভুলভুলাইয়া’, ‘দে দানা দান’ ইত্যাদিতে অক্ষয় কুমার একদিকে একশন ও অপরদিকে কমেডি দুটোই সমান পারদর্শী। এছাড়াও তিনি বেশ কিছু সামাজিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার মধ্যে ‘প্যাডম্যান’, ‘টয়লেট এক প্রেম কথা’ খুবই জনপ্রিয় হয়েছে।

Star Casting:

অক্ষয় কুমার তার অসাধারণ অভিনয় প্রতিভায় লকডাউনের পর সবার আগে যে সিনেমাটি তার বক্স অফিসে লাভের মুখ দেখিয়েছে সেটি হল ‘বেল বাটন (Bell Bottom)’। যখন করোনার সেকেন্ড ওয়েভ একটু কম এর দিকে থাকে সেই সময় সিনেমাটির অভিনয় শুরু হয়। কোভিড প্রোটোকল মেনে সিনেমার শুটিং শেষ হয়। বেশির ভাগ শুটিং হয়েছে ইন্ডিয়া আর স্কটল্যান্ডে। সিনেমাতে অক্ষয় কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেছেন বাণী কাপুর। অন্যান্য অভিনেতারা হলেন ডলি আলুওয়ালিয়া, জইন খান দুরানি, আদিল হাসান, হুমা কুরেশি। সিনেমার পরিচালক রঞ্জিত তিওয়ারী ও সম্পাদনা করেছেন চন্দন অরোরা।

Bell Bottom Story:

বেল বাটন সিনেমায় অক্ষয় কুমারকে একজন ‘র’ এজেন্টের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যায়। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৪ এই সময়কার কিছু রাজনৈতিক ও কিছু আন্তর্জাতিক ঘটনার ওপরেই সিনেমাটা তৈরি। আশির দশকের শুরুর দিকে প্লেন হাইজ্যাকের বেশ কিছু ঘটনা ঘটে। আর এই সমস্ত হাইজ্যাকের পেছনে কোন না কোন ভাবে আই এস আই ও কিছু জঙ্গী সংগঠন প্রচ্ছন্নভাবে কাজ করছিল। সেই সময় ভারত সরকারের কাছেও প্লেন হাইজ্যাক ও তারপর মুক্তিপণ একটা বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সিনেমার গল্পটা কিছুটা সত্যি ঘটনা অবলম্বনে তৈরি। বর্তমানে অক্ষয় কুমারের বেশ কিছু সিনেমা এরকম সত্যি ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে ‘টয়লেট’, ‘প্যাডম্যান’, ‘মিশন মঙ্গল’ ইত্যাদি। সিনেমা স্টোরিতে দেখানো হয়েছে আই এস আইয়ের প্রচ্ছন্ন মদতে পাঞ্জাবের টেরোরিস্ট সংস্থা এই পুরো হাইজ্যাক করেছে। প্লেনে প্রায় 210 জন যাত্রী ছিল। আর সেই প্রত্যেকটা যাত্রীকেই অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পড়ে র-এজেন্ট বেল বটন অর্থাৎ অক্ষয় কুমারের উপর। 

credits instagram

গল্পে অনশুল মালহোত্রা (অক্ষয় কুমার) একজন জাতীয় দাবা প্লেয়ার ও তার সাথে বিভিন্ন ভাষা যেমন হিন্দি, ইংরেজি, ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদিতে পারদর্শী। শুরুতে অনশুল মালহোত্রা ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য নানা রকম ভাবে প্রিপারেশন নিতে থাকে। বিভিন্ন রকম প্রতিযোগিতা মূলক পড়াশোনা করতে থাকে। আর এই গল্পে অক্ষয় কুমারের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন ডলি আলুওয়ালিয়া। আর অনশুলের মায়ের সাথে একটা মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা অনশুলকে একজন র-এজেন্ট বানিয়ে তোলে। গল্পে অক্ষয় কুমারের মায়ের চরিত্রটা খুব ছোট হলেও বেশ প্রাণবন্ত এবং যথেষ্ট হাসির। মা ও ছেলের খুনসুটি দর্শকদের নজর কেড়েছে।

Bell Bottom Review:

তবে সিনেমাতে নায়িকা বনি কাপুরের খুব বেশি একটিভ রোল ছিলনা। কারণ সিনেমাটা বেশির ভাগই নায়ক অক্ষয় কুমার কেন্দ্রিক। এছাড়াও গল্পে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় লারা দত্তকে। কিন্তু সেরকম কোনো ভালো ডায়লগ স্টোরি’তে ছিল না। তাই লারা দত্তের অভিনয়টা খুব বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি। যাই হোক লারার কস্টিউম ও হেয়ার স্টাইল অনেকটাই ইন্দিরা গান্ধির সাথে মিলে গিয়েছিল। এছাড়া গল্পে জঙ্গি নেতা দলজিত সিং এর চরিত্রে জইন খান দুরানি যথেষ্ট ভালো ভিলেন চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।

সিনেমার প্রথম দিকটা একটু স্লো হলেও সিনেমা শেষের দিকটা অর্থাৎ হাফ টাইমের পরে বেশ দ্রুত গতিতে গল্প এগিয়েছ। গল্প যত শেষের দিকে গড়িয়েছে তত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নায়েকের কাছে এসেছে। সিক্রেট এজেন্ট বেল বাটন (Bell Bottom) তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও স্মৃতি শক্তির সাহায্যে একটার পর একটা বাধা অতিক্রম করেছে। যেগুলো দর্শকদের কাছে প্রতিবারই নতুন নতুন চমক সৃষ্টি করেছে। গোটা সিনেমাটা খুব মসৃণ ভাবে চলেছে। প্রথম দিকটা একটু ধীরে চললেও শেষের দিকটা খুব সুন্দরভাবে এবং দর্শকদের মনোযোগ আকৃষ্ট করেছে। এর পুরো কৃতিত্বই যায় ছবির পরিচালক রঞ্জিত তিওয়ারী। 

Yash Dasgupta যশ দাশগুপ্ত জীবন যাত্রা, পরিবার, ইনকাম, সম্পর্ক ইত্যাদি

Leave a Comment

Your email address will not be published.

You cannot copy content of this page