Jhilimili – Sutan Forest । Talberia Dam। জঙ্গলমহল বাঁকুড়া

দু-এক দিনের ছুটিতে যদি শহরের কোলাহল থেকে একটু মুক্তি পেতে চান তাহলে বেড়িয়ে আসুন ঝিলিমিলি। ঝিলিমিলি বাঁকুড়া জেলায় অবস্থিত হলেও পুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ডের খুব কাছে। সবুজ শাল, শিমুন, পিয়াল, মহুয়া, পলাশে ভরা জঞ্জলে ঘেরা এক অসাধরন প্রাকৃতির সৌন্দর্যে ভরপুর এই ঝিলিমিলি। প্রতি বছর শীতকালে বহু মানুষ এখানে আসেন পিকনিক করার জন্য। শীতের শেষে বসন্তকালে ঝিলিমিলির আশে পাশে লাল পলাশে ঘেরা বন সত্যিই দারুন লাগে। ঝিলিমিলি থেকে মাত্র ৪ কিমি দূরে রয়েছে তালবেড়া লেক। এখান থেকে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত দেখতে খুব ভাল লাগে। ঝিলিমিলিতে একদিন রেস্ট নিয়ে পরদিন চলে যান সুতান ফরেস্ট। অপূর্ব ঘন সবুজ বন আপনার মনকে চাঙ্গা করে দেবে।

ঝিলিমিলির কাছাকাছি দেখার জায়গাগুলি হল

  • তালবেড়া লেক (৪ কিমি), 
  • ঝিলিমিলি -সুতান (২০ কিমি), 
  • খান্দারানী লেক (২৫ কিমি), 
  • গুররাসিনি পাহাড় (২৮ কিমি), 
  • অযোধ্যা পাহাড় (৯০ কিমি), 
  • বুরুডি লেক (৫০ কিমি), 
  • ঘাটশিলা (৬১ কিমি), 
  • দালমা অভয়ারণ্য (৭০ কিমি), 
  • কনক দূর্গা মন্দির (৫৮ কিমি), ইত্যাদি।

কিভাবে ঝিলিমিলি যাবেন

বাসে করে- 

কোলকাতা থেকে ন্যাশনাল হাইওয়ে ৬ ধরে খরগপুর চলে আসুন। এখানে কিছু খেয়ে আবার বেড়িয়ে পড়ুন। এরপর ঝাড়গ্রাম, বেলপাহাড়ি হয়ে আমবুগির জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পৌছে যান ঝিলিমিলি। কোলকাতা থেকে ঝিলিমিলির দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিমি। মুকুটমনিপুর থেকে খাতরা-রানীবাধ হাইওয়ে ৩০ কিমি গেলে পৌছে যাবেন ঝিলিমিলি।

What It REALLY Means to Build a Functional Fitness Community buy steroids australia paypal Klopp offers latest on Joe Gomez fitness – Liverpool FC

ট্রেনে করে-

হাওড়া, শালিমার বা সাঁতরাগাছি থেকে সহজেই ট্রেনে করে বাঁকুড়া চলে আসুন। বাঁকুড়া থেকে ঝিলিমিলির দূরত্ব ৮০ কিমি। বাঁকুড়া স্টেশন থেকে বাস বা ভাড়া গাড়ী পেয়ে যাবেন।

কখন যাবেন

ঝিলিমিলি, অযোধ্যা পাহাড়, কাকড়াঝোড়, জঙ্গলমহল ইত্যাদি পাহাড়ি এলাকা গুলিতে বেড়ানোর সময় হল মূলত শীতকাল। কারণ গরমকালে এই সমস্ত জায়গা গুলি অত্যন্ত রুক্ষ হয়ে পড়ে। আর তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে। এছাড়াও গরমকালে এখানে জল কষ্ট দেখা যায় আর পাহাড়ে যে ছোট ছোট ঝরনা গুলি থাকে সেগুলো শুকিয়ে যায়। আবার অনেকে বর্ষাকালে এই জঙ্গলমহলে আস্তে পছন্দ করেন। কারণ বর্ষাকালে জঙ্গলের সবুজতা আরও অনেক বেড়ে যায়। ঘন সবুজ বন অনেক উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু অঝোর ঝারে বৃষ্টি বর্ষার সময় যাতায়াতের একটা সমস্যা হয়ে থাকে। আবার মূলত বেশির ভাগ পর্যটক এখানে আসেন শীতকালে অর্থাৎ কালী পূজার পর অক্টোবর নভেম্বর ডিসেম্বর এই সময়টায়। আর এখানে এই সময় বহু মানুষ কলকাতা শহরতলি থেকে এসে পিকনিক করে থাকেন। আবার যদি শীতের শেষের দিকে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে আসা যায় তাহলেই জঙ্গল মহল এক অপূর্ব পিয়াল পলাশের লাল ফুলে ঢেকে যায় তখন আবার এক অন্য রূপ প্রকাশ পায়।

  Sundarban Tour Package | সুন্দরবন টুর । ম্যানগ্রোভ বন

খাওয়া – দাওয়া ও পিকনিক

জঙ্গলমহলের বিভিন্ন স্পটে পিকনিক ও খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা আছে। প্রত্যেক বছর কলকাতা- শহরতলি থেকে বহু মানুষ জঙ্গলমহলের বিভিন্ন জায়গায় উইকেন্ড শর্ট টুরে বেড়াতে আসেন। অনেকে আবার ছোট গাড়ি বা বাস ভাড়া করে জঙ্গলমহলে সকালে এসে দুপুরে পিকনিক করে বিকেলবেলা বাড়ি চলে যান। তাই ঝিলিমিলি, তালবেড়িয়া ড্যাম, সুতান ফরেস্ট ইত্যাদি সব জায়গাতেই পিকনিক স্পট আছে। তবে যারা খাদ্য রসিক আছেন, তারা এখানে এসে অবশ্যই দেশি মুরগির মাংস একবার ট্রাই করবেন। এছাড়া শীতকালে সকালের দিকে খাঁটি খেজুর রস এখানে পাওয়া যায়। জঙ্গলমহলের গ্রামের মানুষেরা খুবই সরল সাদাসিদে। এখানকার লোকের কাছ থেকে আপনি সব রকম সাহায্য পেয়ে যাবেন।

ঝিলিমিলি তে কোথায় থাকবেন

jhilimili bankura
গেস্ট হাউস

ঝিলিমিলি তে থাকার জায়গা বলতে প্রথমেই নাম আসে রিমিল ইকো ট্যুরিজ্‌ম। সব রকম আধুনিক সুযোগ সুবিধা যুক্ত রিসোর্ট এটি। এখানে থাকার জন্য আছে দারুন সব কটেজ ও ট্রি হাউস। রিমিলে বাচ্ছাদের জন্য একটা ছোটো পার্ক আছে। সেখানে দোলনা, স্লিপ ইত্যাদি আছে। রিমিলে থাকা খরচ ২০০০ – ৪০০০ টাকা। তবে খাওয়া খরচ আলাদা। চাইলে কোলকাতা থেকে এডভান্স বুকং করে নিতে পারেন।

রিমলি গেস্ট হাউস

Phone No for Booking Rimil Tourist Lodge: 

+918538834031 / +918942085127

সুতানের জঙ্গল

সুতানের জঙ্গল ওয়াচ টাওয়ার

ঝিলিমিলি তে এসে থাকলে সুতান পিকনিক স্পট অবশ্যই ঘুরে যাবেন। ঝিলিমিলি থেকে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে জঙ্গলের পথে পৌছে যাবেন সুতান। সুতানের রাস্তায় যেতে যেতে দার্জিলিঙের পাহাড়ি রাস্তার কথা মনে হবে। এই জায়গাটির চারিপাশ পাহাড় দিয়ে ঘেরা ও মাঝে একটি বড় লেক আছে। শীতকালে যখন প্রচুর টুরিস্ট আসে তখন এই লেকে বটিং এর ব্যবস্থা করা হয়। সুতানের জঙ্গলে থাকার জন্য সরকারি গেস্ট হাউস আছে। সুতানের জঙ্গলে একরাত থেকে এখানকার শান্ত নীরব প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করুন। গেস্ট হাউসের পাশে একটি ওয়াচ টাওয়ার আছে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে জঙ্গলের অনেকটা ভাল ভিউ পাওয়া যায়।  

  Bakkhali, Frasergunj Tour | Bakkhali Hotel | বকখালি ভ্রমণ

তালবেরিয়া ড্যাম

সুদান তালবেরিয়া

বাঁকুড়া থেকে খাতরা হয়ে ঝিলিমিলি যাবার পথে আরও একটি দর্শনীয় জায়গা হল তালবেড়িয়া ড্যাম ও পিকনিক স্পট। তালবেড়িয়া ড্যামটি ঝিলিমিলি থেকে মাত্র 4 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। জঙ্গলের মাঝে তালবেরিয়ার বিশাল নীল জলরাশি অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তৈরি করে। চারিদিকে ঘন সবুজ জঙ্গলে ঘেরা এই তালবেড়িয়া ড্যাম ভ্রমণার্থীদের পিকনিক করার খুব ভালো জায়গা। ড্যামের জল খুবই স্বচ্ছ। অনেকে এই জলে নেবে চান করে থাকেন। এছাড়াও এই তালবেরিয়াতে নৌকা বিহারের ভালো ব্যবস্থা আছে। জঙ্গলের মাঝে এইখানে শীত কালে নানান প্রজাতির পাখির ডাক শোনা যায়। খাতরা ঝিলিমিলি রোডের মাঝে রাওলারা গ্রামের ভিতরে এই তালবেড়িয়া ড্যাম যেতে হয়। 

তালবেরিয়া ড্যাম

ঝিলিমিলি সম্পর্কে সবকিছু জানতে যোগাযোগ করুন – Bankura District Government Website

Leave a Comment